নাটোরে কলেজ শিক্ষক খুনের মামলায় গ্রেফতার নেই, পুড়ে নিহত ছাবিহার স্বজনারাও আতংকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর
নাটোরের সিংড়ায় জিয়া পরিষদের নেতা ও কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যার ৪ দিন অতিবাহিত হলেও কোন আসামী গ্রেফতার করতে পারে নি পুলিশ। অন্যদিকে এই হত্যায় ক্ষুদ্ধ হয়ে বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় এখন কোন মামলা করতে পারে নি ভুক্তভোগীর পরিবার।
গত ২১ জানুয়ারী বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামে বিল হালতি কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।এঘটনায় সন্দেহভাজন ৭ সাতজনের নাামে এবং আরো ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে সিংড়া থানায় হত্যা মামলা করেছে নিহতের স্বজনরা।কিন্তু এখনও কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ জানাচ্ছেন তারা।
মামলার বাদি এবং নিহত রেজাউল করিমের ভাতিজা বলেন, হত্যার ঘটনার ৪দিন পার হলেও এখনও কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারি নি পুলিশ। একজনকে ঘটনার দিনই গ্রেফতার করেছে, তবে তিনি কে বা কেন তাকে ধরলো সে বিষয়েও পুলিশ কিছু জানায় নি।
রেজাউল করিমের হত্যার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্বজনরা হত্যাকান্ডের সন্দেহভাজন ওহাব আলীর বাড়িতে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।আগুনে পুড়ে মারা যান ওহাব আলীর বৃদ্ধা মা ছাবিহা বেগম। এরপর থেকে তারা আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।ছাবিহা হত্যার ঘটনায় এখনও কোন মামলা করতে পারেন নি তার স্বজনরা। শুধু মাত্র সন্দেহ করে ইচ্ছাকৃতভাবে পুড়িয়ে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা ছাবিহাকে পরিকল্পিতভাবে এবং নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি তার স্বজনদের।
আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত ছাবিহার ছেলে আব্দুর রহিম বলেন, যখন রেজাউলের স্বজনরা যখন তাদের বাড়িতে আগুন দেয় তখন তার চিৎকার করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন। তখন তাকে উদ্ধার করেতে গেলে বাধা দেয় হামলাকারিরা। যদি তখন ছাবিহাকে উদ্ধার করা যেত তাহলে হয়তো তিনি বেঁচে থাকতেন। রহিমের অভিযোগ শুধু মাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তাদের বাড়িতে হামলা করেছে রেজাউলের ক্ষুদ্ধ স্বজনরা। ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন বলে তাকে আসামী করা হয়নি কিন্তু তবুও নতুন করে হামলার আতংকে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেন রহিম।
নাটোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো.ইফতে খায়ের আলম বলেন, দুটি হত্যাকান্ডকেই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
গত এক যুগে শুধু মাত্র কলম ইউনিয়নে প্রায় ১৩ টি রাজনৈতিক হত্যাকন্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব হত্যাকান্ডের বিচারহীনতার জন্য বন্ধ হচ্ছে না হত্যার সংস্কৃতি বলছেন সচেতন মহল।